Commonwealth Games 2026: একদিনে ৮ পদক, কমনওয়েলথে ইতিহাস গড়ল ভারতীয় বক্সিং দল!


গ্লাসগো : শনিবার বক্সিংয়ে শেষ দিনের লড়াই শুরু হওয়ার আগেই ইতিহাস গড়ে ফেলেছিলেন ভারতের বক্সাররা। কারণ, রিংয়ে নামার আগেই নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল একসঙ্গে ১০টি পদক আসতে চলেছে ভারতের ঘরে। কমনওয়েলথ গেমসের ইতিহাসে ভারতের বক্সিংয়ে এটি একটি নতুন রেকর্ড। কারণ, অতীতে এই সাফল্য কেউ পায়নি। এশিয়ান গেমসের ইতিহাসে প্রতিবারই সেরা ৫এর তালিকায় থাকে ভারত কিন্তু গতকাল রাত অবধিও ছিল দশ নম্বরে। সেই ব্যর্থতাই ঘোচালেন বক্সাররা।

১০টি পদকই পেয়েছে ভারত। এর মধ্যে রয়েছে ৭ সোনা ও ৩ রুপো। এর ফলে গ্লাসগো কমনওয়েলথ গেমসে বক্সিংয়ে সবথেকে সফল দেশ হিসেবে শেষ করল ভারত। এর ফলে ২০৩০ সালে আহমেদাবাদে অনুষ্ঠিত হতে চলা কমনওয়েলথের আগে বাড়ল ভারতের আত্মবিশ্বাসও। ২০১৮ সালে গোল্ড কোস্টে ভারত বক্সিং বিভাগে পেয়েছিল মোট ৩টি সোনা, ৩টি রুপো ও ৩টি ব্রোঞ্জ। চার বছর পর বার্মিংহ্যামে তা হয় ৩টি সোনা, ১টি রুপো ও ৩টি ব্রোঞ্জ। তবে এবারেও মহিলা বক্সারের দাপট দেখা গেল কমনওয়েলথে।

৫১ কেজি বিভাগে নিখাত জারিনের পরিবর্তে সুযোগ পাওয়া সাক্ষী চৌধুরী, প্রীতি পাওয়ার, জ্যাসমিন ল্যাম্বোরিয়া ও লাভলিনা বরগোহাঁই – সবাই বড় মঞ্চে পদক জয়ের ক্ষমতা রাখেন। এই চারজনকে কেন্দ্র করেই ভারতের শক্তিশালী মহিলা দল গড়ে উঠেছে, যাঁরা অম্লানবদনে যেকোনো প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর ও জেতার – দুয়েরই ক্ষমতা রাখেন। তাঁদের সঙ্গে সোনা জিতলেন প্রিয়া মানহাসও। পুরুষ বিভাগকেও সফল বলতেই হয়, সচিন সিওয়াচ ও অঙ্কুশ পাঙ্গাল – দুজনেই ফাইনাল জিতে সোনা পেলেন। লাভলিনা ও পুরুষ বক্সার যদুমণি সিং ছাড়া সবাই ফাইনালে জয় পেয়েছেন। লাভলিনাকে কঠিন ম্যাচে ৫-১ ব্যবধানে হারান অস্ট্রেলিয়ার বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন এমা সু গ্রিনট্রি। শেষ মুহূর্ত অবধি হাড্ডাহাড্ডি ম্যাচ হলেও ক্লান্তিজনিত কারণে ম্যাচ হেরে যান আসামের এই বক্সার। প্যারা স্পোর্টসেও জোড়া পদক এল ভারতের। সোনা পেয়েছেন ভারতের সোমান রানা ও রুপো পেয়েছে শুভম জুয়াল।

শনিবার পর্যন্ত ভারতের পদকসংখ্যা ৩৯। এর মধ্যে সোনা ১৩টি, রুপো ১৭টি ও ব্রোঞ্জ ৯টি। পদক তালিকায় এক নম্বরে রয়েছে অস্ট্রেলিয়া। তাদের পদক সংখ্যা ১৫৮, এর মধ্যে সোনা ৬৫টি। ১০১টি পদক নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে ইংল্যান্ড, তাদের সোনা সংখ্যা ২৬। ৫৯টি পদক নিয়ে তৃতীয় স্থানে কানাডা ও ৩৯টি পদক নিয়ে চতুর্থ স্থানে ভারত। ভারতের থেকে একটি পদক পিছনেই পঞ্চম স্থানে আছে স্কটল্যান্ড।

Leave a Reply