নিজের সোশ্যাল মিডিয়াতে দীর্ঘ পোস্ট করে প্রবীর জানিয়েছেন, “কোথা থেকে শুরু করব বুঝতে পারছি না, কারণ আমি কোনোদিন ভাবিনি যে এই ফিলিংসগুলো ভাষায় প্রকাশ করতে হবে। আজ অত্যন্ত আবেগপ্রবণ ও কৃতজ্ঞ হৃদয়ে আমি পেশাদার ফুটবল থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবসরের ঘোষণা করছি।” এর পাশাপাশি তিনি মোহনবাগান জার্সি পরিহিত একটি ছবিও শেয়ার করেছেন, যা প্রমাণ করে সবুজ-মেরুনের প্রতি তাঁর ভালবাসা কতটা খাঁটি। তাই মোহনবাগান ফিরে এসেছে তাঁর স্মৃতিচারণাতে। প্রবীর বলছেন, “সবাই জানে মোহনবাগান নিয়ে আমি কত আবেগপ্রবণ। এই ক্লাব সবসময় আমার মাদার ক্লাব হয়ে থাকবে। মোহনবাগান আমার মায়ের সমান। এখানেই একজন ফুটবলার হিসেবে আমি নিজের আসল পরিচয় খুঁজে পেয়েছি। আর এই ক্লাব ও সমর্থকদের থেকে পাওয়া ভালবাসা আজীবন আমার হৃদয়ে থাকবে।”
এর পাশাপাশি নিজের চোটের বিষয়েও জানিয়েছেন তিনি। চোট পাওয়ার পর কীভাবে তাঁর কেরিয়ার অনিশ্চিত হয়ে যায়, অকপটে শেয়ার করেছেন প্রবীর। তাঁর কথায়, “কেরলের হয়ে প্রি-মরসুম চলাকালীন আচমকা বাঁদিকে অসাড়তা অনুভব হয়। পরে জানতে পারি, এটা একটা স্নায়ুর রোগ। তখন আমার মনে হয়, আমাকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে হবে।” পাশাপাশি নিজের স্ত্রী গীতশ্রী, ক্লাব, কোচ ও সমর্থকদের ধন্যবাদও জানিয়েছেন তিনি।
২০১২ সালে পৈলান অ্যারোজ থেকে উত্থান প্রবীরের। ২০১৫ সালে প্রথম সবুজ-মেরুন জার্সি পরেন তিনি। ছিলেন ২০১৭ অবধি। সেই সময়ে মোট ২৬ ম্যাচে ১টি গোল করেছিলেন সবার পরিচিত ‘দিগাদা’। এরপর ২০১৭ থেকে এটিকের হয়ে খেলেন প্রবীর। ২০২০ সালে এটিকের সঙ্গে মোহনবাগান মার্জ হয়ে গেলেও থেকে যান তিনি। ২০২২ পর্যন্ত ছিলেন প্রবীর। সেই সময় ৭৩ ম্যাচ খেলেছিলেন তিনি। তাঁর বহু অ্যাসিস্ট থেকে গোল করেছেন ফিজির ফুটবলার রয় কৃষ্ণা। এমনকি সেই সময় নিজের ভ্লগে রয়কে প্রতিদিন নিতেন প্রবীর। ২০২৫ সালে কেরালা ব্লাস্টার্স থেকে তিনি লোনে যান মুম্বইতে। এরপর ইন্টার কাশিতে। সেই জার্সিতেই অবসর নিলেন প্রবীর।