IPL 2026 Playoff Schedule : বিসিসিআই-এর বড় সিদ্ধান্ত, বেঙ্গালুরু থেকে সরল আইপিএল ফাইনাল!


কলকাতা : আইপিএল (IPL) মানেই একটা রীতি বরাবর হয়ে এসেছে। যে দল আইপিএল চ্যাম্পিয়ন হবে, সেই দলের ঘরের মাঠেই হবে পরবর্তী সিজনের উদ্বোধনী ম্যাচ ও ফাইনাল ম্যাচ। কিন্তু শেষ দুই বছর ধরেই এই প্রথা বদলে গিয়েছে। ২০২৪ সালে আইপিএল চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল কলকাতা নাইট রাইডার্স (Indian Premier League)। ফলে, নিয়ম অনুযায়ী কেকেআরের ঘরের মাঠ ইডেন গার্ডেন্সে হওয়ার কথা ছিল ২০২৫ সালের ফাইনাল। কিন্তু, অক্ষমতার দোহাই দিয়ে সেই ম্যাচ নিয়ে যাওয়া হয়েছিল আমেদাবাদে (Ahmedabad)। ২০২৫ সালের চ্যাম্পিয়ন দল আরসিবির (RCB) ঘরে মাঠে হওয়ার কথা ছিল এই বছরের ফাইনাল। কিন্তু সেই নিয়মও একই কারণ দেখিয়ে বদল করল বিসিসিআই (BCCI)।

আজ, বুধবার বোর্ড প্লে-অফের সূচি ঘোষণা করেছে। সেখানে জানা গিয়েছে, কোনও ম্যাচই দেওয়া হয়নি বেঙ্গালুরুকে। সাধারণত, ফাইনাল ও আরও একটি ম্যাচ পায় বিজয়ী দলের ঘরের মাঠ। এবার কিছুই মানা হয়নি। বোর্ডের সূচি অনুযায়ী, ২৬ মে হিমাচল প্রদেশের ধর্মশালা স্টেডিয়ামে হতে চলেছে প্রথম কোয়ালিফায়ার। ২৭ মে নিউ চণ্ডীগড়ের মুল্লানপুর স্টেডিয়ামে হতে চলেছে এলিমিনেটর। ২৯ মে একই মাঠে হবে দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ার। ৩১ মে আমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়ামে (Narendra Modi Stadium) আয়োজন করা হবে ফাইনাল।

প্রকাশিত বিবৃতিতে বিসিসিআই সচিব দেবজিৎ সাইকিয়া জানিয়েছেন, বেঙ্গালুরুতে ম্যাচ আয়োজনের কথা থাকলেও বেঙ্গালুরুর থেকে যে যে প্রয়োজনীয় জিনিস ও সুরক্ষা প্রটোকল চাওয়া হয়েছিল, তা তারা দিতে ব্যর্থ। এর ফলেই ফাইনাল সরানো হচ্ছে চিন্নাস্বামী থেকে। তাই বেঙ্গালুরু থেকে সরানো হচ্ছে ম্যাচ। এর পাশাপাশি, অন্যান্য বেশ কিছু সমস্যার কারণ দেখিয়ে প্লে-অফ মাত্র ৩টি স্টেডিয়ামেই রাখা হচ্ছে।

যদিও আসল কারণ হিসেবে শোনা যাচ্ছে অন্য কথা। বিতর্কের মূলে কংগ্রেস বিধায়ক বিজয়ানন্দ কাসাপ্পানাভা। তিনি বলেছেন, বিধায়করা ভিআইপি, তাই তাঁদের বিনামূল্যে টিকিট দিতে হবে। বিজয়ানন্দের দাবিকে সমর্থন করে অনেক বিধায়ক ৫টি করে টিকিট ও এক্সক্লুসিভ লাউঞ্জের দাবি করেছেন। এতে কর্ণাটক বোর্ড রাজি হলেও বিসিসিআই এই সংস্কৃতিতে ক্ষুব্ধ। টিকিটের আকাশছোঁয়া দাম ও হাহাকারের মাঝে বিধায়কদের এই বিনামূল্যে টিকিট বিলাসিতা দেখে চটেছেন ভক্তরা। সোশ্যাল মিডিয়ায় সাধারণ ক্রিকেটপ্রেমীরা ভিআইপি কালচারের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছেন। একে সাধারণ মানুষের আবেগের সাথে খেলা বলছেন তাঁরা। সব বিধায়কই যে এই স্রোতে গা ভাসিয়েছেন তা নয়। জনগণের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এস এন চান্নাবাসাপ্পা ও সুরেশ কুমারের মতো নেতারা এই ভিআইপি টিকিট নিতে সটান অস্বীকার করেছেন। কিন্তু আইপিএল ফাইনাল বেঙ্গালুরু থেকে সরে যাওয়ার ফলে আর যে টিকিটের কোনও কথাই উঠবে না, তা বলাই বাহুল্য।



Leave a Reply