প্রথম ম্যাচেই ২ গোল রিয়াল মাদ্রিদ তারকার।Image Credit: Getty Images
ফ্রান্স – ৩ (এমবাপে ২, ব্র্যাডলি বার্কোলা) : সেনেগাল –১ (ইব্রাহিম এমবায়ে)
নিউ জার্সি: বেশি নয়, ৮ বছর পিছিয়ে যান। ২০১৮ বিশ্বকাপ (FIFA World Cup)। ফ্রান্স (France) বনাম আর্জেন্টিনা (Argentina) কোয়ার্টার ফাইনাল। বারবার আর্জেন্টিনা ডিফেন্সকে চূর্ণ করে বক্সে ঢুকে পড়ছিলেন ১৮ বছরের একজন কিশোর। কিলিয়ান এমবাপে (Kyllian Mbappe)। তাঁর পায়ের ম্যাজিক দেখে বারবার মনে পড়ছিল রোনাল্ডিনহো (Ronaldinho), কাকার (Kaka) সেই স্বর্ণযুগকে। তারপরে পেরিয়েছে ৮ বছর। এই ৮ বছরে এখন অনেক পরিণত সেই ১৮ বছরের কিশোর। তবে একটা জিনিস এখনও অপরিবর্তিত। তাঁর গতি, তাঁর খেলার প্রতি নিষ্ঠা ও গোলের খিদে। এই খিদেই তাঁকে পৌঁছে দিল আরও একবার রেকর্ডের দরজার সামনে। মাত্র ২৮ বছর বয়সেই বিশ্বকাপে করে ফেলেছেন ১৪ গোল। আর ৩ গোল করলেই হয়ে যাবেন সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা। তবে আজ তাঁর সাফল্যের জন্য ফরাসি কোচ দিদিয়ের দেশঁকে (Didier Deschamps) কৃতিত্ব দিতেই হবে। স্রেফ পজিশন বদলিয়েই ফরাসি তারকার খেলা ‘খুলে’ দিলেন দেশঁ।
২৪ বছর আগে বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে সেনেগালের মুখোমুখি হয়েছিল ফ্রান্স। সেই ম্যাচ সেনেগাল জিতেছিল ১-০ গোলে। গোল করেছিলেন পাপা বৌবা ডিওফ। সেনেগালের বর্তমান কোচ পাপা থিয়াও সেই ২০০২ দলের এক সদস্য। তবে মানতেই হবে, সেনেগাল পাল্টা লড়াই করেছে। প্রথম থেকেই এমবাপেকে কড়া নজরে রেখেছিলেন কৌলিবালি। কোনওভাবেই সেনেগালের ডিফেন্স ভেদ করতে পারেননি দুয়ে, ডেম্বেলেরা। সাদিও মানে, নিকোলাস জ্যাকসনরা চেষ্টা করলেও গোলের খাতা খুলতে পারেননি প্রথমার্ধে।
দ্বিতীয়ার্ধে একটি ছোট বদল করেন ফরাসি কোচ। এমবাপেকে স্ট্রাইকার থেকে উইঙ্গারের পজিশনে নিয়ে আসেন ফলে গোলের সুযোগ বেড়ে যায় এমবাপের জন্য। ৬৬ মিনিটের মাথায় মাইকেল ওলিসের পাস থেকে গোল করেন কিলিয়ান এমবাপে। এর কয়েক মিনিটের মধ্যেই সেনেগালের ঈসমাইলা সারের গোল অফসাইডের জন্য বাতিল হয়ে যায়। ৮২ মিনিটের মাথায় এমবাপের পাস থেকে দুরন্ত গোল করলেন বার্কোলা। ছোট্ট চিপেই বল জালে জড়িয়ে দেন পিএসজি-র এই ফরোয়ার্ড। সেনেগালের হয়ে একমাত্র গোল করলেন ১৮ বছর বয়সী এমবায়ে। তাঁর ডান প্রান্ত থেকে নেওয়া কোণাকুণি শটে পরাস্ত হন ফরাসি গোলরক্ষক মাইক ম্যাগনান। ৯০+৬ মিনিটের মাথায় এমবাপের দুরন্ত শটে ৩-১ হয়ে যায় ম্যাচের স্কোর। ম্যাচ শেষেও এই ফলেই জিতল ফরাসি দল।
এরপরেই রেকর্ড গড়লেন এই রিয়াল মাদ্রিদ তারকা। এতদিন ধরে ফ্রান্সের জার্সিতে সর্বোচ্চ গোলদাতা ছিলেন অলিভিয়ের জিরু। ৫৭ গোল করেছিলেন জিরু। তবে আজ তাঁকে টপকে গেলেন এমবাপে। মাত্র ৯৯ ম্যাচ খেলেই করে ফেললেন ৫৮ গোল। একই সঙ্গে বিশ্বকাপে ১৪ খানা গোল হয়ে গেল তাঁর। ২০১৮ সালে নিজের প্রথম বিশ্বকাপে করেছিলেন ৪ গোল, ২০২২ সালে তাঁর পা থেকে এসেছিল মোট ৮ গোল, যার মধ্যে ফাইনালেই হ্যাটট্রিক করেছিলেন তিনি। এবার বিশ্বকাপ অভিযানের শুরুতেই ২ গোল করলেন তিনি, টপকে গেলেন ফ্রান্সের জার্সিতে সর্বোচ্চ গোলদাতা জুল ফন্টেকে। ১৯৫৮ সালের বিশ্বকাপে স্রেফ ৬ ম্যাচেই ১৩ গোল করেছিলেন ফন্টে। এবার এমবাপের গোলসংখ্যা ১৪। তবে বিশ্বকাপের বাকি ম্যাচগুলো খেলে কত গোল করতে পারবেন তিনি, সেদিকেই নজর থাকবে ফুটবল দর্শকের।