অধিনায়ক ভার্জিল ভ্যান ডাইক।Image Credit: Getty Images
কলকাতা : কাতার বিশ্বকাপের আর্জেন্টিনা ম্যাচ এখনও ভুলতে পেরেছেন ভ্যান ডাইকরা? সেই ম্যাচে একের পর এক ফাউল, মারামারি করেও গোল আসেনি নেদারল্যান্ডসের। ফলে, আর্জেন্টিনার কাছে হেরেই বিশ্বকাপ স্বপ্ন শেষ হয়ে গিয়েছিল তিন বারের ফাইনালিস্টরা। চার বছর পর এই নেদারল্যান্ডস আবার বিশ্বমঞ্চে নামতে চলেছে। টোটাল ফুটবলের জনকরা বরাবরই বিশ্বের এক আকর্ষণীয় দল। তবে ২০২৬ বিশ্বকাপে সম্পূর্ণ নতুন দল নিয়ে নামছে অরেঞ্জ বাহিনী।
শক্তি :-
বর্তমান নেদারল্যান্ডস দলের মূল চালিকাশক্তি তাদের রক্ষণ ও মাঝমাঠ। রক্ষণে অধিনায়ক ভার্জিল ভ্যান ডাইক অভিজ্ঞ, যিনি যেকোনও খারাপ ম্যাচেও দলের ঢাল হয়ে দাঁড়ান। মাঝমাঠে দখল নেবেন আর এক অভিজ্ঞ ফ্রেঙ্কি ডি জং ও দুর্দান্ত ডর্মে থাকা তিয়ানি রেইডার্সের পায়ে। আক্রমণভাগে গোল করার ও করানোর মূল দায়িত্ব পালন করবেন তারকা মেম্ফিস দেপাই ও উইঙ্গার কোডি গ্যাকপোর পায়ে।
এই দলের মেরুদন্ড তাদের ডিফেন্স ও মাঝমাঠ। স্কোয়াডের শক্তি বিবেচনা করে কোচ রোনাল্ড কোম্যান মূলত ৩-৪-৩ বা ৪-৩-৩ ফর্মেশনে দল সাজাতে পারেন। নাথান একে, ভার্জিল ও ডামফ্রিস – এই তিনজনকেই মূল চালিকাশক্তি ভাবা হচ্ছে। এই দলের শক্তির জায়গা তাদের জমাট রক্ষণভাগ ও মাঝমাঠের বৈচিত্র। মাঝমাঠের আক্রমণ বিভাগ সামলাবেন সামারভিলের মতো ফুটবলাররা, ফলে ডাচদের প্রতি-আক্রমণ নিয়ে আশাবাদী কোম্যান।
দুর্বলতা :-
মাঝমাঠ ও ডিফেন্সে বিকল্প থাকলেও, দলে প্রথাগত ‘নাম্বার নাইন’ নেই, যা ভোগাচ্ছে ডাচদের। ব্রায়ান ববি, ভেগহোর্স্টের মতো স্ট্রাইকাররা বড় ম্যাচে কতটা সফল হবেন, তা নিয়ে প্রশ্নচিহ্ন রয়েই গেল। এই বিশ্বকাপে নেদারল্যান্ডস ভরসা করতে পারে মেম্ফিস ডেপাইয়ের উপর, যদিও আক্রমণ বিভাগ নিয়েই চিন্তায় থাকবে নেদারল্যান্ডস।
স্কোয়াড দিয়ে বিচার করলে নেদারল্যান্ডসকে এই বিশ্বকাপের ‘ডার্ক হর্স’ বলা যেতে পারে। গ্ৰুপ পর্ব ও রাউন্ড অফ ৩২ এর বাধা তারা সহজেই টপকে যাবে। যদিও আশা করা হচ্ছে, নেদারল্যান্ডসের দৌড় এবার বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল পর্যন্ত। একমাত্র কঠিন মুহূর্তে নার্ভ ঠান্ডা রাখলেই ট্রফি আসবে কোম্যানের ঘরে।