বিশ্বকাপের এই ট্রফি উদ্ধার করেছিল পিকলস!Image Credit: X
কলকাতা : আর মাত্র দিন পাঁচেক, তারপরেই শুরু ফুটবলের যুদ্ধ। ৪ বছর পর আবার বিশ্বমঞ্চে নামতে প্রস্তুত মেসি, রোনাল্ডো, হাল্যান্ডরা। তবে এই বিশ্বকাপ নিয়ে জড়িত আছে কত গল্প, কত কাহিনী। কত কাহিনী শুনে মনে হয়, এ কি আদৌ সম্ভব? কিন্তু গল্পে যখন বাস্তবতার রং লাগে, তখন সবই সম্ভব। যেমন, ১৯৬৬ সালের বিশ্বকাপ। এই বছর ইংল্যান্ড প্রথমবার বিশ্বকাপ জিতেছিল। কিন্তু ১৯৬৬ সালের বিশ্বকাপকে দর্শক মনে রেখেছেন অন্য কারণে। এই গল্প হার মানাবে যেকোনও ক্রাইম থ্রিলারকে।
সময়টা ১৯৬৬ সালের মার্চ মাস। বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার ঠিক চার মাস আগে লন্ডনের সেন্ট্রাল হলের একটি প্রদর্শনীতে সাধারণ মানুষের দেখার জন্য রাখা হয়েছিল ঐতিহ্যবাহী ‘জুলে রিমে ট্রফি’ বা তৎকালীন বিশ্বকাপ। কড়া নিরাপত্তা থাকা সত্ত্বেও ২০ মার্চ সবাইকে চমকে দিয়ে উধাও হয়ে যায় বিশ্বকাপের ট্রফি। এরপরেই চারদিকে শোরগোল পড়ে যায়। স্কটল্যান্ড ইয়ার্ডের বাঘা বাঘা গোয়েন্দারা কাজে লেগে পড়েন কিন্তু কেউ ট্রফির কোনও হদিশ পাচ্ছিলেন না। চোরেরা ফিফার কাছে বড় অংকের মুক্তিপণ দাবি করে বসে।
কীভাবে বিশ্বকাপ উদ্ধার হল?
এর ঠিক এক সপ্তাহ পর, ২৭ মার্চ দক্ষিণ লন্ডনের শহরতলিতে নিজের পোষা কুকুর পিকলসকে নিয়ে বিকেলে হাঁটতে বেরিয়েছিলেন ডেভিড করবেট নামে এক ভদ্রলোক। হঠাৎ করেই পিকলস একটি প্রতিবেশীর গাড়ির চাকার পাশে গিয়ে জোরে জোরে ডেকে মালিকের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে শুরু করে ও মাটিতে পড়ে থাকা খবরের কাগজে মোড়ানো এটকি ভারী বস্তুর দিকে বারবার তাকাতে থাকে। কৌতহলবশত হয়ে খবরের কাগজ আলগা করতেই চমকে ওঠেন ডেভিড। কাগজের স্তরের নিচে চকচক করে ওঠে বিশ্বের সবচেয়ে মূল্যবান ট্রফি। করবেট তক্ষুনি সেটা নিয়ে ছোটেন থানায়।
এরপরেই রাতারাতি তারকা বনে যায় পিকলস। সারা বিশ্বের সংবাদমাধ্যমে শিরোনামে চলে আসে তার নাম। পুরস্কার হিসেবে পিকলসকে দেওয়া হয় মেডেল ও এক বছরের জন্য নিখরচায় কুকুরের সুস্বাদু খাবারের রসদ। এমনকি ইংল্যান্ড যেহেতু সেই বছর বিশ্বকাপ জিতেছিল, তাই বিজয়ী দলের জন্য আয়োজিত অফিশিয়াল গালা ডিনারেও সসম্মানে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল পিকলস ও তার মালিক করবেটকে।
বিশ্বকাপ এবার ৯৬ বছরে পা দিল। এই ৯৬ বছরে কত গল্প রচিত হয়েছে, ঘটে গিয়েছে কত ঘটনা। কিছু ঘটনা আজও সমর্থকদের গায়ে কাঁটা দেওয়ায়। তবে ১৯৬৬ সালের বিশ্বকাপকে চুরির হাত থেকে বাঁচিয়ে এক চিরকালীন রূপকথা উপহার দিয়েছিল ছোট কুকুর পিকলস।