Deepak Chahar: অবসরের দিন চাহারের কেরিয়ার পাল্টে দিয়েছিলেন ধোনি
নয়াদিল্লি: আইপিএলের মেগা নিলামে (IPL 2022 Auction) ১৪ কোটি টাকা খরচ করে দীপক চাহারকে (Deepak Chahar) কিনেছে চেন্নাই সুপার কিংস। দীপক চাহার সিএসকেতে নিজের সেই জায়গাটা তৈরি করতে পেরেছেন বলেই, মাহির দল তাঁর ওপর আস্থা রেখেছে। কিন্তু রেকর্ড টাকায় সিএসকে দীপককে দলে ফেরানোয় স্বাভাবিকভাবেই রীতিমতো চর্চা শুরু হয়ে যায়। বলা হচ্ছিল, এত বেশি টাকা দিয়ে বোলার আগে কোনও ফ্র্যাঞ্চাইজি কেনেনি। তবে দীপক কি শুধুই বোলার? ব্যাটার দীপকের ঝলক তো ইতিমধ্যেই দেখেছে ক্রিকেটবিশ্ব। তা আইপিএলেই হোক, বা দেশের হয়ে গত বছর শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে.. কিংবা দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে ব্যাট হাতে দীপককে কেউ ভুলবেন না। আইপিএলের মেগা নিলাম পর্ব মিটেছে। এমন সময় চেন্নাই সুপার কিংসের স্কোয়াডের দিকে নজর দিলে দেখা যাবে, সেখানে ম্যাচ উইনার, দলের সিনিয়র প্লেয়ারদের দেখতে পাওয়া যাবেই। মাহিমন্ত্রে মুগ্ধ হয়েছেন বহু তরুণ ক্রিকেটার। তাঁদের মধ্যেই পড়েন দীপক চাহারও। চেন্নাইয়ের হয়ে খেলার সুবাদে মহেন্দ্র সিং ধোনির (MS Dhoni) কাছ থেকে অনেক সময় অমূল্য পরামর্শ পেয়েছেন দীপক। যা তাঁর বোলিংয়ে উন্নতি করার পাশাপাশি ব্যাটিংয়েও কাজে লেগেছে।
স্পোর্টসইয়ারি ইউটিউব চ্যানেলে এক সাক্ষাৎকারে দীপক চাহার নিজের ব্যাটিং নিয়ে, মাহির কাছ থেকে ব্যাটিংয়ের জন্য পাওয়া পরামর্শ নিয়ে এবং আইপিএলে চেন্নাই ছাড়া আর অন্য কোন দলে খেলতে চান এ ব্যাপারে বলেছেন।
রেকর্ড টাকা খরচ করে সিএসকে দলে ফিরিয়েছে দীপক চাহারকে। এ ব্যাপারে তিনি বলেন, “সম্প্রতি ব্যাটিংয়ে আমি ভালো করেছি। আমি যদি টিম মালিক হতাম, আমিও চাইতাম বোলিংয়ের পাশাপাশি ব্যাটিংয়েও যে আমাকে ভরসা দেবে, পুরো মরসুমে ব্যাট হাতে এক-দুটো ম্যাচ জিতিয়ে দেবে তার ওপর ১২-১৩ কোটি টাকা খরচ করব।”
চেন্নাই শিবিরে মহারথীদের কমতি নেই। বোলিংয়ে দীপককে উন্নতি করার জন্য যেমন পরামর্শ দিয়েছিলেন মাহি, তেমনই তাঁর ব্যাটিংকেও উন্নত করার জন্য টিপস দিতে ভোলেননি মাহি। এ ব্যাপারে দীপক বলেন, “মাহি ভাই একদিন আমাকে বলেছিল, বোলিংয়ে তুই ভালো করেছিস। কিন্তু ব্যাটিংয়ের সঙ্গে যেটা করা দরকার ছিল সেটা করিসনি। তোর ব্যাটিংয়ে আরও উন্নতি করা দরকার। ২০১৯ সালে মাহিভাই যেদিন অবসর ঘোষণা করেছিলেন, সেদিন আমাকে এই কথা বলেছিলেন। আমরা সন্ধেবেলায় বসেছিলাম। কথাবার্তা হচ্ছিল, তখন আমাকে মাহিভাই ব্যাটিংয়ের দিকে ফোকাস করার কথা বলেছিল।”
চেন্নাই যে নিলামে দীপককে নেবে সে ব্যাপারে তিনি নিজেও নিশ্চিত ছিলেন না। এ ব্যাপারে দীপক বলেন, “আমি নিশ্চিত ছিলাম না। আমি নিলামে ছিলাম। পঞ্জাব-রাজস্থানের কাছে অনেক টাকা ছিল। তাই যা কিছু হতে পারে। তবে আমি সিএসকের হয়েই খেলতে চাই। চেন্নাই আমাকে অনেক কিছু দিয়েছে। তাই চেন্নাইয়ে অবশ্যই আমি খেলে যেতে চাই। তবে চেন্নাই ছাড়া আর যে ফ্র্যাঞ্চাইজির সঙ্গে আমি খেলে উপভোগ করতে পারব, সেটা হল রাজস্থান। একটা পুরনো সম্পর্ক রয়েছে। ঘরোয়া ক্রিকেটে রাজস্থানের হয়ে খেলি। ওখানকার মানুষও আমাকে জানে। তাই একটা সময় যখন সিএসকে আর রাজস্থানের বিড চলছিল, মনে হচ্ছিল, যেখানেই যাই, দুটো দিকেই ঘরই পাব।”
নিজের ব্যাটিং নিয়ে একটা সময় জোর চর্চা করেছেন দীপক। এই নিয়ে তিনি বলেন, “ব্যাটিং আমি ছেলেবেলা থেকেই করছি। ছেলেবেলা থেকেই অল-রাউন্ডার হওয়ার চেষ্টা করছি। ২০১৭-১৮ সালে এখনকার থেকে আরও ভালো ব্যাটিং করতাম। ওই সময় ক্রিকেট কম খেলছিলাম। বাড়িতে বেশি থাকতাম। লিগ ক্রিকেট অনেক খেলতাম। ব্যাটিংয়ের অনেক প্র্যাক্টিস করতাম। বোলিং প্র্যাক্টিসের থেকেও বেশি ব্যাটিং প্র্যাক্টিস করতাম। বোলিংয়ের কিছু সীমাবদ্ধতা থাকে, শরীরে বেশি লোড আসত। কিন্তু ব্যাটিংটা অনেক করতে পারতাম। ২০১৭-১৮ সালে যখন পুনেতে আমি গিয়েছিলাম বোলিংয়ের তুলনায় আমার ব্যাটিংটা বেশি ভালো ছিল। এর পর যখন আমি ম্যাচ খেলতে শুরু করলাম তখন ব্যাটিং করার সুযোগ ততটাও পেতাম না। ম্যাচ প্র্যাক্টিসও কম হত।”
একই সঙ্গে চাহার বলেন, “লোকাল টুর্নামেন্ট খেলায় অসুবিধে হত। প্রথম শ্রেনির ক্রিকেট কম হত। আর হলেও সেখানে খেলতে গেলে এমন হত, ক্রিকেটাররা বলত ভাই তুমি এখানে খেললে আমরা আমাদের খেলা কখন দেখাবো? তুমি তো আইপিএলে খেলছই। আমদের সিলেকসন কখন হবে। তাই ব্যাটিংয়ের সুযোগটা কমে গিয়েছিল। অনেক ব্যাটিং শট রয়েছে, যা এখন অতটা সাবলীল ভাবে করতে পারি না। স্বাভাবিকভাবেই প্র্যাক্টিস করতে না পারলে যেটা হয়। শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে যেটা হল, যেমন প্রথমের ২০-২৫ বলে আমি তেমন শটই নিইনি। নিজের ওপরই বিশ্বাস পাচ্ছিলাম না, যে শট তো মারব, সেটা কী ঠিক হবে। কারণ অনেক দিন ব্যাটিংই করিনি। মনে হয় ৫-৬ মাস ধরে ম্যাচে আমি ব্যাটিংই করিনি। তবে নিয়মিত ম্যাচে খেললে, ভালো করতে করতে ছন্দটা ফিরে আসে। তবে আমার মনে হয় আমার ব্যাটিংয়ে যে উন্নতিটা হয়েছে, সেটা বুঝে শুনে খেলার জন্যই হয়েছে। এখন আমি পরিস্থিতি অনুযায়ী খেলি। যেমন দলের কত রান প্রয়োজন, কে বল করছে, কোথায় রিস্ক নিতে পারি। মনে করি গত দেড় বছরে এই দিকটায় আমি উন্নতি করেছি। ব্যাটিং আগে ভালো করতাম। তবে এখন পরিস্থিতি বুঝে বুদ্ধি খাটিয়ে বেশি ভালো পারফর্ম করে দেখাতে পাই।”