ধূর্ত-কুর্তাতেই ২২ গজের লড়াই। Pics Courtesy: Twitter
ভোপাল: ধুতি আর ফতুয়া পরা দু’জন দৌড়চ্ছেন প্রাণপণে বাইশ গজে। সিঙ্গলস চুরি করার জন্য। কিংবা চার-ছয়ে মাতিয়ে দিচ্ছেন। দুই ব্যাটারের এই তাগিদ চমত্কার ফুটিয়ে তুলছেন ধারাভাষ্যকাররা (commentary)। তবে ইংরেজি বা হিন্দিতে নয়, খাস সংস্কৃতে (Sanskrit)! এমনই অভিনব ক্রিকেট চলছে ভোপালে (Bhopal)। উপলক্ষ্য মহির্ষী মহেশ যোগীর জন্মবার্ষিকী। ওই অনুষ্ঠানকে বর্ণময় করতে পুজোপাঠ করেন যাঁরা, সেই সব পুরোহিত (Pundit), বৈদিক পণ্ডিতদের নিয়ে চলছে ক্রিকেট (Cricket) টুর্নামেন্ট।
‘সংস্কৃত বাঁচাও মঞ্চ’এর শীর্ষকর্তা চন্দ্রশেখর তিওয়ারি বলেছেন, ‘গত বছর থেকে এই ক্রিকেট টুর্নামেন্ট চলছে। পুজোপাঠ করেন যে সব পুরোহিত কিংবা বৈদিক পণ্ডিত, তাঁরাই এতে অংশ নেন। ধুতি-ফতুয়া পরার পাশাপাশি সমস্ত প্লেয়ার সংস্কৃতেই কথা বলেন। শুধু তাই নয়, ম্যাচের ধারাভাষ্যও দেওয়া হয় সংস্কৃতে।’
Madhya Pradesh: Players wore dhoti & mundu and the commentary was done in the Sanskrit language during a cricket match organised by Maharishi Vedic Parivar in Bhopal on Monday
“This initiative is aimed at promoting the Sanskrit language,” said a player pic.twitter.com/gR5d9wiNGC
— ANI (@ANI) January 18, 2022
হিন্দির চাপে সংস্কৃত ভাষা প্রায় অবলুপ্তির পথে। ভোপালের ওই সংগঠন আজও সংস্কৃত আঁকড়ে ধরেই এগোতে চান। আর তাই ভাষাটাকে বাঁচিয়ে রাখার আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছেন। এই ক্রিকেট টুর্নামেন্ট তারই অঙ্গ। যে টিম চ্যাম্পিয়ন হয়, তাদের জন্য নগদ অর্থ থাকে ঠিকই, ম্যাচের সেরা সহ এবং সেরাদের দেওয়া হয় সংস্কৃত বই।
ধুতি পরে ক্রিকেট খেলতে সমস্যা হয় না? চন্দ্রশেখর কিন্তু বলে দিচ্ছেন, ‘ধুতি পরে খেলার সময় কোনও সমস্যাই হয় না। এমনকি, ফিল্ডিং করতে গিয়েও কোনও সমস্যায় পড়ে না কেউ। আমি তো নিজেই ক্রিকেট খেলি এই টুর্নামেন্টে। ধুতি পরে দিব্যি চার-ছয় মারতে পারি।’
ভারতবর্ষ যে বৈচিত্রের দেশ, এই সব ঘটনাই তার প্রমাণ। ক্রিকেট যে প্রকাশের মাধ্যম, তারও প্রমাণ। শুধু ভোপাল নয়, কাশীতেও এমন একটা ক্রিকেট টুর্নামেন্ট হয়। সেই মডেলকেই ফলো করে ভোপালে শুরু হয়েছে এই অভিনব ক্রিকেট টুর্নামেন্ট।
আরও পড়ুন : IPL 2022: রাহুলের পাশে স্টোইনিস ও বিষ্ণোই, ক্রিকেটার নির্বাচন চূড়ান্ত লখনউয়ে