Published by: Krishanu Mazumder | Posted: January 29, 2022 9:29 pm| Updated: January 29, 2022 9:35 pm
এটিকে মোহনবাগান–৩ (নাসিরি-হ্যাটট্রিক)
এসসি ইস্টবেঙ্গল–১ (সিডোয়েল)
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: প্রথম লেগে এটিকে মোহনবাগান (ATK Mohun Bagan) ৩-০ গোলে মাটি ধরিয়েছিল এসসি ইস্টবঙ্গলকে (SC East Bengal)। তার পরে গঙ্গা দিয়ে অনেক জল গড়িয়ে গিয়েছে। শনিবার মাণ্ডবী তীরে ছিল আইএসএলের সেরা বক্স অফিস। সেই ম্যাচে নতুন এক তারকার উদয় হল। বহু যুদ্ধের সৈনিক জামশেদ নাসিরির ছেলে কিয়ান নাসিরি (Kiyan Nasiri) হ্যাটট্রিক করে ম্যাচ নিয়ে চলে গেলেন এটিকে মোহনবাগান শিবিরে। তিনি নেমে সমতা ফেরান। তার পর আরও দুটো গোল করে এটিকে মোহনবাগানকে জিতিয়ে দিলেন।
এদিন নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী খেলছে এসসি ইস্টবেঙ্গল। মানোলো দিয়াজের জমানা থেকে মারিওর লাল-হলুদ শিবিরকে অনেক সপ্রতিভ দেখিয়েছে। এসসি ইস্টবেঙ্গলের এই রূপান্তরের পিছনে রয়েছেন রেনেডি সিং। লাল-হলুদের রক্ষণভাগ আগের থেকে অনেক বেশি শক্তিশালী। আজকের ডার্বি ম্যাচে এটিকে মোহনবাগানের শক্তিশালী আক্রমণভাগের সামনে পাঁচিল তুলে দিচ্ছিল এসসি ইস্টবেঙ্গল। মানবপ্রাচীরে বারংবার এসে ধাক্কা খাচ্ছিল এটিকে মোহনবাগানের আক্রমণ। নিজেদের পেনাল্টি বক্সের সামনে প্রায় ন’ জন ফুটবলার নামিয়ে এনেছিল এসসি ইস্টবেঙ্গল। আর উপরে মাত্র দু’ জন-পেরোসেভিচ ও মার্সেলা রিবেইরো। নবাগত ব্রাজিলীয় রিবেইরো বেশ নজর কাড়েন। দীর্ঘ চেহারা তাঁর। স্বাস্থ্য বেশ ভাল। উচ্চতাও চোখে পড়ার মতোই। এটিকে মোহনবাগানের রক্ষণের খেলোয়াড়দের উপরে চাপ তৈরি করছিলেন। এই চাপের ফলেই প্রথমার্ধে তিরি ভুল করে বসেন। সেই সুযোগে রিবেইরো এটিকে মোহনবাগানের পেনাল্টি বক্সে ঢুকে পড়েন। তাঁর শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। মাথায় হাত পড়ে কোচ মারিও রিভেরার। ডার্বির মতো ম্যাচে এই ধরনের সুযোগের সদ্ব্যবহার করতে হয়।
[আরও পড়ুন: ‘আপনি চিরকাল হৃদয়ে থাকবেন’, ডার্বির আগে সুভাষ ভৌমিককে শ্রদ্ধা নিবেদন দুই প্রধানের]
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই এটিকে মোহনবাগান প্রায় গোল করে ফেলেছিল। বাঁ দিক থেকে কাট করে ঢুকে লিস্টন কোলাসোর শট এসসি ইস্টবেঙ্গলের পোস্টে লেগে প্রতিহত হয়। তার কয়েক মিনিট পরেই শুভাশিসের হেড অল্পের জন্য বেরিয়ে যায়। রয় কৃষ্ণ না থাকায় আপফ্রন্টে সেই কামড় ছিল না এটিকে মোহনবাগানের। এসসি ইস্টবেঙ্গল ৫৬ মিনিটে এগিয়ে যায়। পেরোসেভিচের কর্নার থেকে গোল করে যান সিডোয়েল। তার আগের মুহূর্তে পেরোসেভিচের জোরালো শট অমরিন্দরের শরীরে লাগায় কর্নার পায় লাল-হলুদ। এটিকে মোহনবাগান সমতা ফেরায় কিয়ান নাসিরির করা গোলে। দীপক টাঙ্গরির পরিবর্তে ফেরান্দো মাঠে পাঠান তরুণ কিয়ান নাসিরিকে। তাঁর বাবা জামশেদ নাসিরি অতীতে ডার্বি মাতিয়েছেন। তাঁর ছেলে এদিন গোল করে ঢুকে পড়লেন ডার্বির কক্ষপথে। অবশ্য যে ডিফেন্স এতক্ষণ পর্যন্ত এসসি ইস্টবেঙ্গলকে বাঁচাচ্ছিল, আসল সময়ে ভুলের পর ভুল করে বসে। বল বিপন্মুক্ত করতে পারল না লাল-হলুদ রক্ষণ। সেই সুযোগে সদ্য নামা কিয়ান নাসিরি গোল করে যান।
সমতা ফেরানোর পরের মুহূর্তেই পেনাল্টি পায় এটিকে মোহনবাগান। লিস্টনকে ফেলে দিলে পেনাল্টি পায় এটিকে মোহনবাগান। পেনাল্টি স্পট থেকে গোললাইন রহস্যময় সরণী। সেই সরণীতে অনেকেই পথ হারিয়েছেন। এদিন ডেভিড উইলিয়ামস উড়িয়ে দিলেন পেনাল্টি। এসসি ইস্টবেঙ্গলকে এগিয়ে দিতে পারতেন লালরিন গোলের সহজ সুযোগ নষ্ট করেন লালরিনলিয়ানা। অমরিন্দর শরীর ছুঁড়ে বাঁচান এটিকে মোহনবাগানকে। শেষ লগ্নে লিস্টন কোলাসোর শট হীরা মণ্ডল গোললাইন থেকে বাঁচান। কিন্তু কিয়ান নাসিরিকে থামানো যায়নি। শেষ লগ্নে দুটো গোল করে এসসি ইস্টবেঙ্গলকে একাই হারিয়ে দিলেন তিনি।
[আরও পড়ুন: ‘তালিবান মনে করে আমার শরীরটাও ওদের’, বিস্ফোরক দাবি একমাত্র আফগান পর্ন তারকার]
Sangbad Pratidin News App: খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ