ঝুলনের বিশ্বরেকর্ড গড়ার দিন অধরা জয়, দ্বিতীয় ম্যাচেই পা হড়কালেন মিতালিরা


নিউজিল্যান্ড: ২৬০-৯ (অ্যামি ৭৫, অ্যামেলিয়া ৫০)
ভারত: ১৯৮-১০ ( হরমনপ্রীত ৭১, মিতালি ৩১)
নিউজিল্যান্ড ৬২ রানে জয়ী।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: পাকিস্তানের বিরুদ্ধে আধিপত্য বজায় রেখে মহিলাদের বিশ্বকাপের (ICC Women’s World Cup) প্রথম ম্যাচে জিতেছে ভারত। কিন্তু দ্বিতীয় ম্যাচে থমকে গেল মিতালি রাজের দল। বিশ্বকাপে খেলতে আসার আগে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে সিরিজ খেলেছিল ভারতীয় দল। ওয়ানডে সিরিজে ভারত ১-৪-এ হেরে গিয়েছিল কিউয়িদের বিরুদ্ধে। নিউজিল্যান্ড যে ধারে ও ভারে শক্তিশালী তা আগেই জানত ভারতীয় দল (India Women Cricket Team)। বৃহস্পতিবার বিশ্বকাপে কিউয়িদের কাছে ৬২ রানে হেরে গেল ভারত। পুরো ৫০ ওভার খেলতে পারেনি ভারতের ব্যাটাররা। ৪৬.৪ ওভারে ভারতের ইনিংস শেষ হয়ে যায় ১৯৮ রানে। হেরে যাওয়ার দিন আবার ব্যক্তিগত নজির গড়লেন বাংলার ঝুলন গোস্বামী। ঝুলন মোট ৫টি বিশ্বকাপ খেলেছেন। বিশ্বকাপের ৩০টি ম্যাচে মাঠে নেমে ৩৯টি উইকেট দখল করেন ঝুলন। আর তার ফলে তিনি যুগ্মভাবে মহিলা বিশ্বকাপে সব থেকে বেশি উইকেট নেওয়ার নজির গড়েন। বাংলার বোলার ও অস্ট্রেলিয়ার লিন ফুলস্টোন একই বন্ধনীতে জায়গা করে নিলেন।  

নিউজিল্যান্ডের (New Zealand) মাঠে খেলা সব সময়ে কঠিন ব্যাপার। মাঠের আকার, এলোমেলো হাওয়া প্রতিপক্ষের কাজ কঠিন করে তোলে। টস জিতে ভারত প্রথমে ফিল্ডিং নেয়। প্রতিপক্ষের স্কোর দেখে রান তাড়া করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন মিতালি। কিউয়ি বাহিনীকে অল্প রানে থামিয়ে রাখাই ছিল ভারতের লক্ষ্য। কিন্তু ৫০ ওভারের শেষে নিউজিল্যান্ড করে ৯ উইকেটে ২৬০ রান। শুরুতে কিউয়ি ওপেনার সুজি  হেটস মাত্র ৫ রানে রান আউট হলেও সোফি ডিভাইন ও অ্যামেলিয়া কের ইনিংস গোছানোর কাজ করেন। সোফি ডিভাইন ব্যক্তিগত ৩৫ রানে ফেরেন। এর পরে অ্যামেলিয়া কের এবং অ্যামি স্যাটারথওয়েট নিউজিল্যান্ডের ইনিংস এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার কাজ করেন। অ্যামেলিয়া কের ব্যক্তিগত ৫০ রানে এলবিডব্লিউ হন রাজেশ্বরী গায়কোয়াড়ের বলে। অ্যামি সর্বোচ্চ ৭৫ রান করেন। তাঁর আগে অবশ্য আউট হন ম্যাডি গ্রিন (২৭)। তখন দলের রান ৪ উইকেটে ১৭৫। অ্যামি স্যাটারথওয়েট আউট হন দলীয় ২২৪ রানে। কেটে মার্টিন খেলেন লড়াকু ৪১ রানের ইনিংস। বাকিরা অবশ্য কেউই সেভাবে বড় রান করতে পারেননি। তবুও ৫০ ওভারের শেষে নিউজিল্যান্ড যে ২৬০ রান করে, তার পিছনে কৃতিত্ব নিউজিল্যান্ডের টপ অর্ডারের। 

[আরও পড়ুন: মেলবোর্নে ওয়ার্নকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শেষ বিদায় ৩০ মার্চ, থাকবেন এড শিরান]

ভারতীয় বোরালদের মধ্যে পূজা বস্ত্রকার চারটি উইকেট নেন। রাজেশ্বরী গায়কোয়াড়ের ২টি উইকেটের পাশাপাশি ঝুলন গোস্বামী ও দীপ্তি শর্মা একটি করে উইকেট নেন। ইনিংসের একেবারে শেষ ওভারে ঝুলন ফিরিয়ে দেন নিউজিল্যান্ডের উইকেটকিপার কেটি মার্টিনকে। আর তার ফলেই তিনি বিশ্বরেকর্ড গড়েন।  

নিউজিল্যান্ডের করা এই রান তাড়া করতে হলে দরকার ছিল পার্টনারিশপ গড়া। কিন্তু শুরু থেকেই নিয়মিত ব্যবধানে উইকেট হারানোয়  ভারত শুরু থেকেই চাপে পড়ে যায়। স্মৃতি মান্ধানা ৬, দীপ্তি শর্মা ৫, অভিজ্ঞ মিতালি রাজ ৩১, ওপেনার ভাটিয়া ২৮ রান করেন। রান তাড়া করতে নেমে  শুরুতেই ভারত কিন্তু ছিটকে যায়। একা লড়াই চালিয়ে যান হরমনপ্রীত। একদিক থেকে যখন একের পর এক ভারতের ব্যাটাররা ফিরে যাচ্ছেন, তখন অন্যপ্রান্তে লড়াই চালিয়ে গিয়েছিলেন হরমনপ্রীত। তিনি ব্যক্তিগত ৭১ রানে যখন ফেরেন, তখন ভারত লড়াই থেকে ছিটকে গিয়েছে। বাকিরা সেভাবে লড়াই করতে পারলেন না। 

[আরও পড়ুন: দীর্ঘ কেরিয়ারে ইতি, ক্রিকেটকে বিদায় জানালেন বিতর্কিত নায়ক শ্রীসন্থ]

Sangbad Pratidin News App: খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

নিয়মিত খবরে থাকতে লাইক করুন ফেসবুকে ও ফলো করুন টুইটারে



Leave a Reply