কলকাতা : বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার আগে থেকেই নানা সমস্যা নিয়ে চর্চা অব্যাহত ছিল। একের পর এক বিষয়ে ক্রমাগত কাঠগড়ায় তোলা হচ্ছিল ইরানকে। এমনকি বিশ্বকাপ খেলবে কি খেলবে না, সেই নিয়েও একসময় কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছিল ইরান দলের ফুটবল ফেডারেশন। তবে অবশেষে সেই সংঘাত প্রায় মেটার পথে। বিশ্বকাপ ফুটবল খেলতে আগ্রহী হয়েছে ইরান ফুটবল দল। তবে, এই মুহূর্তে ইরানের সঙ্গেই চর্চায় একটি নম্বর, ১৬৮!
এই ১৬৮ নম্বরের অর্থ কী?
গতকাল মেক্সিকোতে নিজেদের বিশ্বকাপের প্রস্তুতি শিবির গেড়েছে ইরান ফুটবল দল। ইরানের খেলোয়াড়রা নেমেছেন মেক্সিকোর মাটিতে। নেমেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নানা বৈষম্যমূলক নিয়মকে নিশানা করার পাশাপাশি চর্চায় এসেছে এই ১৬৮ নম্বরও। ইরানের খেলোয়াড়রা নামার সময় দেখা যায়, তাঁদের বুকে একটি পিন লাগানো, যাতে লেখা #১৬৮। এই ১৬৮ নম্বর আসলে ইরান বনাম ইজরায়েল-মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের ফলে ইরানের একটি স্কুলে মিসাইল হানায় মৃত ১৬৮ জন মানুষের সংখ্যা। এই ১৬৮ জনের মধ্যে শতাধিক শিশু ছিলেন বলে জানা গিয়েছিল। প্রায় তিন মাস আগে ইরানের উপর এই হামলা চালায় ইজরায়েল, যার মদত দিয়েছিল আমেরিকা, অভিযোগ করেছিল ইরান।
ফিফা রাজনৈতিক প্রদর্শনী নিয়ে কঠোর নিয়ম করে রাখলেও যেহেতু ইরান দল মাঠের বাইরে এই প্রদর্শনী করেছে, তাই ইরানের ফিফার রোষানলে পড়ার সম্ভাবনা কম। ফিফার নিয়ম অনুযায়ী, মাঠে কোনও রাজনৈতিক, ধর্মীয় স্লোগান বা বার্তা দিলে সংস্লিষ্ট দল বা খেলোয়াড়কে শাস্তির মুখে পড়তে হতে পারে। কিন্তু এই ঘটনার ফলে কোনও অসুবিধে হবে না ইরানের, আশা করছেন ফুটবল সমর্থকরা। যদিও ইরানের এই প্রতিবাদ নতুন নয়। গত মার্চ মাসে তুরস্কে নাইজেরিয়ার বিরুদ্ধে একটি প্রস্তুতি ম্যাচে নামার আগে ইরানের খেলোয়াড়রা গোলাপি-বেগুনি ব্যাগ নিয়ে নেমেছিলেন, যার অর্থ ছিল – ক্ষেপণাস্ত্র হানায় নিহত শিশুদের প্রতি ইরানের শ্রদ্ধার্ঘ্য। তবে সেই হামলার দায় আমেরিকা বা ইজরায়েল – কেউই নেয়নি। কিন্তু, এই মুহূর্তে ইরানের এই ১৬৮ নম্বরের পিন নিয়ে চর্চা বিশ্বজুড়ে।