Fifa World Cup: এএক বিশ্বকাপে ‘দুই বিশ্বযুদ্ধ’ লড়তে নামছে ইরান, কী বলছেন প্রাক্তন ফুটবলাররা?


কলকাতা: বেশ কয়েক বছর আগে দেশের এক বড় মাপের কমেডিয়ান মায় অভিনেতা নিজের শো-তে একটি কথা বলেছিলেন, “টু ইন্ডিয়াস” – অর্থ? দুই ভারত। আরও স্পষ্ট করে বোঝালে একই কয়েনের এপিঠ ও ওপিঠ। ঠিক যেমন, এবারের বিশ্বকাপ। খেলতে আসা ইরান দলের ক্ষেত্রে এই মুহূর্তে একের পর এক প্রতিবন্ধকতা। সেই সামলেও বিশ্বকাপ খেলতে আসছে ইরান। যদিও, অনেকের মতে, এই ইরানের কাছে আসলে দুই রকম যুদ্ধ চলছে। এক, মাঠের যুদ্ধ। আর এক, যে যুদ্ধে তাদের প্রতিদিন যুঝতে হচ্ছে। যে যুদ্ধে নেই কোনও ফুটবল মাঠ, নেই কোনও দর্শক। আছে স্রেফ মৃত্যু, বোমা-গুলির গর্জন, যে ইরান জুড়ে শুধুই হাহাকার শোনা যাচ্ছে মাস কয়েক ধরে, যার জন্যও কৃতিত্ব দেওয়া উচিত এই আমেরিকাকেই, যারা নিজেদের ‘দাদাগিরি’ দেখতে এভাবে ইরানকে মাটিতে মিশিয়ে দিতে চেষ্টা করছে বারংবার।

এই দেশের যুদ্ধ সামলেও ইরান মাঠে নামছে। আসন্ন বিশ্বকাপে খেলার জন্য ইরানের প্রস্তুতি শিবির করা হয়েছে মেক্সিকোতে। তবে ইতিমধ্যেই আমেরিকা নির্দেশ দিয়েছে, যেদিন ম্যাচ সেদিন আমেরিকা এসে ম্যাচ খেলে একদিনের মধ্যেই দেশ ছেড়ে মেক্সিকো ফিরতে। আবার ফিরে এসে পরের ম্যাচ খেলুক ইরান, যা প্রত্যেক খেলোয়াড়ের জন্য প্রবল মানসিক চাপের সমান।

কিন্তু এর ফলে কতটা চাপে পড়বেন খেলোয়াড়রা? টিভি৯ বাংলাকে কী জানালেন রাজ্যের প্রাক্তন ফুটবলাররা? প্রাক্তন ফুটবলার প্রশান্ত ব্যানার্জির কথায়,“একে দেশে এতবড় যুদ্ধ চলছে, তার মধ্যে আবার বিশ্বকাপ পড়ে গিয়েছে, সব দিক থেকেই বিধ্বস্ত রয়েছে ইরানের খেলোয়াড়রা। এই যুদ্ধের ফলে ওদের কনসেন্ট্রেশন হারিয়ে গিয়েছে। শারীরিক, মানসিক দুই দিক থেকেই তারা পিছিয়ে। আমার মনে হয়, ইরান এই বিশ্বকাপে খুব ভাল ফল করতে পারবে না কারণ ওরা মানসিকভাবে অত ভাল খেলার পর্যায়ে নেই। ইরান যেহেতু বিশ্বকাপের যোগ্যতা অর্জন করেছে, তাই ওরা খেলতে যাচ্ছে কিন্তু এই মানসিক চাপ সামলে খেলতে নামা খুব কঠিন।”

ইরানকে সমর্থন করে ইস্টবেঙ্গলের কিংবদন্তি গোলরক্ষক ভাস্কর গঙ্গোপাধ্যায় জানিয়েছেন,“ইরান খেলতে গিয়েছে এটা অনেক বড় বিষয়। এই দলটা বার্তা দিচ্ছে, আমাদের যতই দমানোর চেষ্টা করা হোক, আমরা দমিনি। এত অসুবিধার মধ্যেও আমরা ভাল ফুটবল প্রদর্শন করতে পারি। ওরা আপ্রাণ চেষ্টা করবে ভাল ফুটবল খেলার। আমার বিশ্বাস ইরান ভাল খেলবে।”

আর এক প্রাক্তন ফুটবলার অলোক মুখোপাধ্যায় জানিয়েছেন,“ইরান বলেই খেলতে গিয়েছে। যেখানে ইরানে এত ডামাডোল, সেখানে খেলতে যাওয়াটাই অনেক। এত বড় যুদ্ধ হল, এত মানুষ মারা গেল, তার মধ্যে ইরান কতটা তৈরী হয়েছে জানি না। বিশ্বকাপ বিশ্বকাপই হয়। তাই সব দেশই ১০০% প্রস্তুতি নিয়ে এসেছে। আমি ইরান প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানাব এই চরম মুহূর্তেও ওরা বিশ্বকাপ খেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অন্য কেউ হলে পারত না। ওরা পেরেছে। আশা করি ওরা ভাল ফল করবে।”

গতকালই মেক্সিকোতে নিজেদের বিশ্বকাপের প্রস্তুতি শিবির গেড়েছে ইরান ফুটবল দল। ইরানের খেলোয়াড়রা নেমেছেন মেক্সিকোর মাটিতে। নেমেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নানা বৈষম্যমূলক নিয়মকে নিশানা করার পাশাপাশি চর্চায় এসেছে এই ১৬৮ নম্বরও। ইরানের খেলোয়াড়রা নামার সময় দেখা যায়, তাঁদের বুকে একটি পিন লাগানো, যাতে লেখা #১৬৮। এই ১৬৮ নম্বর আসলে ইরান বনাম ইজরায়েল-মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের ফলে ইরানের একটি স্কুলে মিসাইল হানায় মৃত ১৬৮ জন মানুষের সংখ্যা। এই ১৬৮ জনের মধ্যে শতাধিক শিশু ছিলেন বলে জানা গিয়েছিল। প্রায় তিন মাস আগে ইরানের উপর এই হামলা চালায় ইজরায়েল, যার মদত দিয়েছিল আমেরিকা, অভিযোগ করেছিল ইরান।

এত মানসিক চাপ সামলে বিশ্বকাপের মঞ্চে নামা মুখের কথা নয়। অনেক ধক্ লাগে। যেভাবে ইরান আমেরিকার গলার কাঁটা হয়ে উঠেছে. তাতে বোঝাই যাচ্ছে যাবতীয় অসুবিধে সামলেও ইরান লড়তে এসেছে বিশ্বমঞ্চে। যদি দুই দলের নক আউট পর্যায়ে দেখা হয়, তাহলে ইরানের প্রতি আক্রমণের দিকে নজর থাকবে সবার। কিন্তু বোঝাই যাচ্ছে, ইরান লড়বে। দেশটার রন্ধ্রে রন্ধ্রে যে লড়াই!!!

Leave a Reply